নিজস্ব প্রতিবেদক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং সংগঠনের নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমন সরদারের অনুসারী এবং জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউল্লাহ আহাদ, যিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক করার চেষ্টা চলছে। জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কয়েকজন সদস্যের দাবি, সংগঠনের একটি কার্যকর কমিটি থাকা সত্ত্বেও কিছু সদস্যকে নিয়ে পৃথক একটি কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ওই কমিটিতে ছাত্রদলের পদধারী নেতা আতাউল্লাহ আহাদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সংগঠন থেকে পূর্বে বহিষ্কৃত এক সাবেক নেতার মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাবের মাধ্যমে সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা স্বাধীন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে সুমন সরদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরা আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। তারা ছাত্রদলের নেতা। আমি বললে তারা এখনই পদ থেকে সরে যাবে। তারা আমার নিয়ন্ত্রণে আছে।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে সাংবাদিক সংগঠনের কমিটি গঠনে তাঁর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত কি না এবং এ বিষয়ে দলীয় কোনো নির্দেশনা ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, “না, এ বিষয়ে আমাকে কেউ বলেনি। যারা ওই কমিটিতে আছে, তারা সবাই আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।” পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারীদের দাবি, সুমন সরদার তাঁদের ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বলে পরিচয় দেওয়ার হুমকি দেন। তবে পরবর্তীতে তিনি বলেন, “না, তেমন কিছু নয়। আমি দ্রুত আপনাদের সঙ্গে বসব।” এদিকে, জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, এ ঘটনার পর তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সুমন সরদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি এবং মামলার ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এদিকে, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদা তোলার অভিযোগে সুমন সরদারকে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। একই বছরের ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের একটি ঘটনাকেও কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জবি ছাত্রদলের একাধিক নেতা দাবি করেন, সুমন সরদারের কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, এসব ঘটনার কারণে নতুন সদস্যদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁরা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্যসচিব সামসুল আরেফিন বলেন, “তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর দায়ভার জবি ছাত্রদল নেবে না।” উল্লেখ্য, সুমন সরদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। ক্যাম্পাসে তাঁদের গ্রুপ ‘বিদ্রোহী’ গ্রুপ নামে পরিচিত।