মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ৯ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ১২:২৪:৩২
টপ নিউজ
অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি মাহাফিজুর রহমান নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকার তরুণরা তেজগাঁও কলেজ থেকে নয়, জঙ্গি সন্দেহে মসজিদ থেকে আটক ২৩ দালাল ছাড়াই বিদেশে চাকরি, আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল— রিকুইটো খুলশীতে ওসি আবদুর রহিমের কঠোর অবস্থান, কোনঠাসা ‘বগা’ বাহিনী চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাস জমি খারিজ প্রতারণা: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও চাঁদা দাবির নাটক, তদন্ত শুরু ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের দুই মাস পর ডিবির জালে চেয়ারম্যান হানিফ জাল দলিলের ফাঁদে প্রবীণ গৃহস্থ, খারিজের নামে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ গুমের এক যুগ পেরোলেও সন্ধান মেলেনি তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতার তেজগাঁও কলেজে তিন দিনব্যাপী মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছাত্রদল নেতা সুমন সরদারের বিরুদ্ধে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি মাহাফিজুর রহমান নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকার তরুণরা তেজগাঁও কলেজ থেকে নয়, জঙ্গি সন্দেহে মসজিদ থেকে আটক ২৩ দালাল ছাড়াই বিদেশে চাকরি, আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল— রিকুইটো খুলশীতে ওসি আবদুর রহিমের কঠোর অবস্থান, কোনঠাসা ‘বগা’ বাহিনী চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাস জমি খারিজ প্রতারণা: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও চাঁদা দাবির নাটক, তদন্ত শুরু ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের দুই মাস পর ডিবির জালে চেয়ারম্যান হানিফ জাল দলিলের ফাঁদে প্রবীণ গৃহস্থ, খারিজের নামে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ গুমের এক যুগ পেরোলেও সন্ধান মেলেনি তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতার তেজগাঁও কলেজে তিন দিনব্যাপী মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছাত্রদল নেতা সুমন সরদারের বিরুদ্ধে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি মাহাফিজুর রহমান নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকার তরুণরা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪
শেয়ার: mail
অনলাইন জুয়ায় কোটিপতি মাহাফিজুর রহমান নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকার তরুণরা

Admin। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার হাজারবিঘী (ভোলামারী ঘোষপাড়া) গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে মো. মাহাফিজুর রহমান নাজিমকে ঘিরে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছেন বড় একটি নেটওয়ার্ক। আর সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে এলাকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হন মাহাফিজুর রহমান নাজিম। পরে ‘হেজি নাইস’ ও ‘ডিকে উইন’-এর মতো বিভিন্ন বেটিং সাইটের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। টেলিগ্রাম গ্রুপকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজস্ব নেটওয়ার্ক। বর্তমানে তার সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রায় ৩৮ হাজার সদস্য রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের দুই দিন—সোমবার ও শুক্রবার—লাইভে এসে অনুসারীদের বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেন নাজিম। বিভিন্ন লোভনীয় অফারের কথা বলে গ্রাহকদের অনলাইন জুয়ায় অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই কার্যক্রম থেকে কমিশন হিসেবে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন নাজিম।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়া থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে নাজিম রাজশাহী শহরের অভিজাত এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের প্লট ও ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং বর্তমানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

হাজারবিঘী ও ভোলামারী ঘোষপাড়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, নাজিমের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে তারা অনলাইন জুয়ায় অর্থ হারিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে অনেকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহাফিজুর রহমান নাজিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রথমে নাজিমের বাবা আনারুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পরে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে নাজিমের মামা মতিউর রহমান বিএল মুঠোফোনে প্রতিবেদককে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া বর্তমানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ এর ২০ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়ার জন্য পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া এবং সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এর প্রচার বা বিপণনকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সরকার অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হাজারের বেশি এজেন্ট শনাক্তের কথা জানিয়েছিল এবং সিআইডি দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছিল।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, অনলাইনে জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি বা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward